Sunday, April 21, 2019
খেতুড়া গ্রাম পরিচিতি
রাঢ় বঙ্গের মধ্যমণি বর্ধমান জেলার গলসি অঞ্চলের এক প্রাচীন গ্রাম খেতুড়া।গ্রামটিতে রাঢ় অঞ্চলের সব বৈশিষ্ট্য গুলিই তীব্র ভাবে বিদ্যমান।লৌকিক লোকদেবতা ক্ষেত্রপালের নাম থেকে গ্রামের নাম ক্ষেত্রপুর>খেতুড়। গ্রামেহিন্দু ব্রাম্ভন,মুসলিম,মেটে,বাউড়ি,মু চি,বাউল প্রভৃতি জাত ধর্মের এক মিলিত সহাবস্থান।ব্রাম্ভন পাড়ায় আগে হত বাসন্তি পূজা,চৈত্র মাসে শারদীয়া দুর্গাপূজার মত চারদিন ধরে মহিষাসুর মর্দিনী সিংহ বাহিনী দেবী দূর্গা সপ্তমী তিথতে পূজত হতেন।চান্না গ্রামে থাকাকালীন সাধক কবি কমলাকান্ত এই পূজা দর্শনে এসেছিলেন বলে প্রচলিত।
গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সেখ,খাঁ, মল্লিক,মিদ্দা,মণ্ডল,আনসারী প্রভৃতি উপাধি দেখাযায়।ফকির পাড়ায় সাহ সম্প্রদায়ের বাস,এখানে বুড়ো পীরের উরস খুব ধুম ধাম করে হয়,এই পাড়ার অনেকে একতারা,দোতারা প্রভৃতি লোকবাদ্য বাজাতে পারদর্শী,অনেকে ফকরি গান গায়,এই গানে সুফি ভাবাদর্শ লক্ষ্যণীয়।গ্রামের অন্য পীরের মাজার গুলি হল ঘোড়া শহীদ,ফকির সাহেব বা বাবা ফেরণ শাহ প্রমুখ গণ।মহরমে শোক পালন হয়ে থাকে,এক সময় মহরমে চন্দন নগরের আলোক সজ্জা ছিল আকর্শনীয়।
গ্রামে আছে প্রাচীন সিং রাজাদের আমলের পুকুর সিংসায়ের।অন্য পুকুর গুলি হল মাঝিপাড়ার প্রাইমারী স্কুলের কাছে বামুন পুকুর ও সামনে বড় পুকুর,বামুন পাড়ায় গাঁ গড়ে,দাস পাড়াতে শুড়ি পুকুর,দক্ষিণ পাড়াতে নতুন পুকুর,ফকির পাড়াতে গাবা পুকুর ও মল্লিক পুকুর।খাঁ পাড়ায় বাগান গড়ে,ফকির সাহেবের আস্তানার কাছে খোড়া পুকুর,পাংশ পুকুর,আল কোড়া পুকুর,মেজেরি পুকুর,প্রামের প্রবেশ মুখে গলসির তখনকার জমিদার গাঙ্গুলীরা গ্রামের বিবিদের (মহিলাদের)সরবরাহ করার জন্য তৈরী করে দিয়েছিলেন বিবি সায়ের,মোড়ল পাড়ায় নাগর দুনা পুকুর প্রসজ্ঞে মোড়ল পাড়ার নয়ন চাঁদ মণ্ডল জানালো ওর দাদোর বাবার প্রচুর গরু মোষ ছিল।সে সময় ইংরেজরা গ্রামে ক্যাম্প বসিয়ে ছিল,এবং সেখানে দুধের যোগান দিত।চলে যাবার সময় ইংরেজরা পুরস্কৃত করতে চায়লে তিনি গরু মোষের পানীয় জলের জন্য এক পুকুর খনন করে দেবার আবদার জানান,ইংরেজরা পুকুর কেটে দিয়েছিল ও চারিদিকে গরুর খাবার দুনা বসিয়ে দিয়েছিল,তাই পুকুর টির নাম নাগরদুনা।
গ্রামে লোক ঐতিহ্য সত্যপীরের গানের আসর যেমন মুসলিম পাড়ায় বসে তেমনি বাউড়ি,মেটে পাড়ায় হয় টুসু গানঃ ' টুসু আমার ভাত খাবে লো আলুপোস্ত তরকারী '।এছাড়া কাজী সাহেব,আলকোরার ক্ষীর ইত্যাদি গ্রাম্য কিছু রেওয়াজ দেখা যায়।
গ্রামের বেশির ভাগ পরিবার কাছের দূরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে উঠে এসে এ গ্রামে বসত গড়েছেন।যেমন এ লেখকেরা ছিল আদিতে আতুসি গ্রামের, আতুসি গ্রামের নিকটে দামোদর নদ,কালক্রমে দামোদর নদের জলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা পরিবর্তনকরে মানুষ গলসির উপরদিয়ে জি টি রোডের উপর নির্ভর হয়ে উঠে,তখন খেতুড়া গ্রামে এসে বাস করতে থাকে সুবিধার জন্য।
এক কথায় খেতুড়া রাঢ় বঙ্গের অনান্য গ্রামগুলির মতোই নানা লোক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধময়।
----------------------------------------------------
সংযোগ
বিমান সেন মহাশয় লিখে পাঠিয়েছেন--
অপূর্ব,,,,চোখে জল এসে গেল। কারন,, শিশুকাল থেকে বাবলার ছেলে হিসাবে,, বুইঞ্চি, খেতুরা কে পড়শী গ্রাম হিসাবে,,গলসী চৌমাথা কেন্দ্রিক মেলামেশা,, প্রায় সবাই সবাইকে চিনতো।
কত স্মৃতি,,,
সুন্দর উপস্থাপনা,,, এই প্রজন্ম জানে না,,,, খেতুরার ডি, ভি, সি, তে আগে লঞ্চ আসতো। ক্যাপ্টেন আমাদের লজেন্স দিতেন।
হাট তলায় কাবাডি র ম্যাচ হতো।
কাবাডি র একমাত্র অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত ভোলানাথ গুঁই ও তাঁর শিষ্য দল ইনসান আলী,আনজার আলী প্রমুখেরা মাঠ মাতিয়ে দিয়ে গেছেন।
ভু-দান আন্দোলনের নেতা "বিনোবা ভাবে" এই গ্রামে এসেছিলেন। খেতুরা গ্রাম টিই তাঁকে দান করা হয়। পরে তিনি আবার সব সত্ত্ব ফিরিয়ে দেন।
এই গ্রামেই আত্মগোপন করেছিলেন রাজনৈতিক কারণে সিনেমা জগতের এক নামজাদা টেকনেশীয়ন ( নাম টা ভুলে গেছি)। তিনি বহু জায়গায় খেতুরার স্মৃতি বলে গেছেন।
বাবলা-খেতুরা ছিল যমজ ভাইয়ের মতো গ্রাম।
খেতুরার বহু বিখ্যাত মানুষ জন ছিলেন। সবাই আজ পরলোকে।
খেতুরা কে খুব ভালো বাসী।
গ্রামের প্রাচীন মন্দির
গ্রাম কৃষি নির্ভর,পশু হাট
ডি ভি সি ব্রিজ
গ্রামের কচিদল,ভবিষ্যৎ স্বপ্ন
গ্রাম্য অনুষ্ঠান
মহরমে চন্দননগরের আলোসজ্জা
ক্ষেত্রপালের থান
বৃষ্টি ভেজা আমাদের গ্রামকদম তলা
সচেতনতা মূলক প্রচারে গ্রামের ছাত্র ছাত্রীরা
খামারে ধান ঝাড়াই
স্বাধীনতা দিবসের দিন
মহরমে খেতুড়া গ্রামবাসীর শোক মিছিল
এই তেঁতুল গাছ গুল এখন আর নেই
ইমাম তালা
ফকির সাহেবের মাজারমেটেপাড়া মনসা তলা
৷ বামুনপাড়া দোল মন্দির
শিব মন্দির
নারায়ণ মন্দির
ধর্মরাজ মন্দির
Saturday, April 20, 2019
বৈষ্ণব তীথ' কুলীনগ্রাম
'কুলীনগ্রামীর কথা কহনে না যায়
শূকর চরায় ডোম সেহ কৃষ্ণ গায়'
কুলীনগ্রামের মাহাত্ম প্রসজ্ঞে কৃষ্ণদাস কবিরাজ তার ' চৈতন্যচরিতামৃতে' গ্রন্থে এই কথা গুলিই লিখে গেছেন।নবদ্বীপে শ্রী চৈতন্য দেবের জন্মের অনেক আগে থেকেই এই গ্রামে আছড়ে পড়েছিল কৃষ্ণ কথার জোয়ার।বধ'মান হাওড়া কড' লাইনে জৌগ্রাম ষ্টেশন থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটের উত্তরে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে পরম তীথ'স্থান রুপে পরিগনিত এই কুলীন গ্রামের অবস্থান।
চৈতন্যদেবের আবি'ভাবের পূবে' পঞ্চদশ শতাব্দীতে এই কুলীনগ্রামে মালাধর বসু রচনা করেন ' শ্রী কৃষ্ণ বিজয়' কাব্য।মালাধর বসুর পিতার নাম ছিল ভগীরথ বসু এবং মাতা ইন্দুমতী দেবী।মালাধর বসুর ' শ্রী কৃষ্ণ বিজয় ' কাব্য যেমন বৈষ্ণব সম্রদারের কাছে খুবই জ নপ্রিয় হয়ে উঠল তেমনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসেও এই কাব্যটি এক আলাদা ব্যতিক্রমী স্থান অধীকার করে নিল।' শ্রী কৃষ্ণ বিজয় ' স ংস্কৃত ভাষায় রচিত ভাগবত পুরাণের দশম ও একাদশ স্কন্দের ভাবানুবাদ,এর আগে কোন আঞ্চলিক ভাষায় ভাগবতের অনুবাদ হয়নি;এ দিক থেকে মালাধর বসুই হলেন ভাগবতের অনুবাদ ধারার প্রবত'ক।এই গ্রন্থ রচনা করতে মালাধর বসুর সাত বছর সময় লেগেছিল,রচনা কাল প্রসজ্ঞে তিনি লিখেছেন_" তেরশ পচানই শকে গ্রন্থ আরম্ভন/চতুদ'শ দুই শকে গ্রন্থ সমাপন।" অথা'ট ১৪৭৩খ্রীষ্টাব্দে(১৩৯৫ শকাব্দে) গ্রন্থ রচনা শুরু হয় এবং ১৪৮০ খ্রীষ্টাব্দে(১৪০২ শকাব্দে) তা সমাপ্ত হয়।এ দিক থেকেও মালাধ র বসুর ' শ্রীকৃষ্ণ বিজয়' হলো বাংলা সাহিত্যে প্রথম গ্রন্থ যেখানে রচনা কাল সম্পকে' স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়।
নিজের আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে মালাধর বসু লিখেছেন_" গৌড়েশ্বর দিলা নাম গুনরাজ খান "তখনকার সাহিত্য সংস্কৃতিপ্রেমী মুসলিম সুলতান গন বাঙালী পণ্ডিত দের ব্রাম্ভন হলে 'মিশ্র' এবং অব্রাম্ভন হ লে 'খান' উপাধিতে ভূষিত করতেন।গৌরের সুলতান রুক উদ্দিন বরবক শাহ(১৪৫৯-৭৪) অন্যমতে শামসুদ্দিন শাহ(১৪৭৪-৮০) মালাধর বসুর কাব্যপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে কবিকে ' গুনরাজ খান' উপাধি প্রদান ক রেন।'শ্রী কৃষ্ণ বিজয়' কাব্যের _" এক ভাবে বন্দ হরি যোড় করি করি হাত/নন্দের নন্দন কৃষ্ণ মোর প্রাণ নাথ" পদটি শ্রী চৈতন্য দেবের খুবই প্রিয় ছিল।মালাধর বংশ ধর দের তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন,শ্রদ্ধা করতেন।বসু পরিবারের অনুরোধে তিনি একবার কুলীনগ্রামে এসেছিলেন।শুধু মালাধর বসু বা শ্রী চৈতন্য দেব নয়,কুলীন গ্রাম যবন হরি দাসের সিদ্ধি স্থান রুপেও বিখ্যাত,এই গ্রামে হরিদাসের আখড়া আজও বিদ্যমান।
কুলীন গ্রামের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা প্রাচীন মন্দির,বিগ্রহ।গোপীনাথ মন্দিরে কালো প্রস্তর মূতি'তে কৃষ্ণ ও গোপীনাথ এবং ধাতু নিম'ত মূতি'তে রাধিকা নিত্য পূজা পান।গ্রামের ভট্টাচায্য' পাড়ায় দালান মন্দিরে আছে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার দারুবিগ্রহ।পাল বংশীয় তান্রিক রাজাদের সময় কাল থেকে গ্রামের হাটতলায় শিবানী মন্দিরে পাষাণময়ী শিবানী এবং প্রস্তর নিমি'ত শিব ও শিবা(শৃগাল) মূতি' বিদ্যমান।প্রায় পাচশো বছর ধরে মিত্র বংশের কূলদেবতা 'কেষ্ট রায়' পূজা পেয়ে আসছেন।রথযাত্রার পরের দিন থেকে উল্টোরথের সময় পয'ন্ত জগ্ননাথ দেবের মাসীর বাড়িতে অধিষ্ঠান উপলক্ষে কুলীন গ্রামে যে বিশেষ পূজার আয়োজন করা হ য় তাতে অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে। পূবে' শ্রী চৈতন্য দেবের ইচ্ছায় পুরীতে রথ যাত্রার আগে পট্টডোরি পাঠানো হতো এই কুলীন গ্রাম তগেকেই।গোপাল মন্দিরের পূব'দিকে রয়েছে এক বৃহৎ জলাশয়, গোপাল দিঘী, এই দিঘী তে হয় কালীয় দমন অনুষ্ঠান।গ্রামে কুলীন দেব দেবী ছাড়াও ধম'রাজ,মনসা,শীতলা প্রভৃতি রাঢ় বজ্ঞের লৌকিক দেব দেবীরাও পূজিত হ ন।
এই ভাবে ইতিহাস, ধম' আর লোকবিশ্বাসের এক অপূব' মেলবন্ধনে কুলীন গ্রাম নিজস্ব ঐতিহ্যে মাথা উঁচু করে আজো বধ'মান।জেলার গৌরব বৃদ্ধি করে আছে।
------------------------------
Thursday, April 18, 2019
চাঁদ সদাগরের চম্পক নগর
ফিরোজ আলী কাঞ্চন
" চম্পক নগরে বৈসে ছাঁদ সদাগর
মনসা সহিত বাদ করে নিরন্তর "
কেতকা দাস ক্ষেমানন্দ
মঙ্গলকাব্য ধারায় মনসা মঙ্গল কাব্যের কাহিনীতে চাঁদ সদাগর,বেহুলা-লখিন্দরের পালা বাঙালী জাতির কাছে আজো জনপ্রিয়।তাইতো চলচিত্রে,যাত্রাপালায় বা বিভিন্ন গল্প,কাব্য,কবিতা কাহিনীতে বার বার এসেছে বেহুলা,গাঙুর নদী বা চাঁদ-চম্পা,সপ্ত ডিঙা মধুকরের প্রসঙ্গ।বাঙালী বণিক চাঁদ সদাগরের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও তীব্র জেদ,স্বামী হারিয়ে বেহুলার অকুল পথে ভেষে যাওয়া এবং চ্যাঙ বুড়ি কানির কুটিল ষড়যন্ত্র সব কিছুর মধ্যে বাঙালী যেন চেতনার খোরাক পেয়েছিল,হৃদয়ের একাত্মতা অনুভব করেছিল।
বর্ধমান থেকে গলসি হয়ে জাতীয় সড়ক ধরে পানাগড়ের আগে বুদবুদ বাইপাস থেকে দক্ষিণ দিকে কয়েক কিলোমিটার গিয়েই কসবা,প্রাচীন নগরী চম্পক।মনসামজ্ঞল কাহিনীর চাঁদ সদাগর ও বেহুলা সম্পর্কীত লোকবিশ্বাস আর জনশ্রতিতে এ স্থান খুবই আকর্শনীয় ও বিখ্যাত।
প্রচলিত আছে চ্যাঙবুড়ি কানি মনসা দ্বারা চাঁদের বাণিজ্যতরী সপ্ত ডিঙা মধুকর ডুবে যাওয়ার পর চাঁদ সদাগর এই অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করেন।এখানে আছে এক শিব মন্দির,জনশ্রুতি পরম শিবভক্ত চাঁদ সদাগর এই রামেশ্বর মন্দিরের প্রায় ৪০ইঞ্চি পরিধির কষ্ঠিপাথরের বিশাল শিব লিজ্ঞটি স্বয়ং স্থাপন করেছিলেন এবং প্রতিনিয়ত পূজা দিতেন।চাঁদ সদাগরের এই শিব ভক্তির পরিণামের কথা আমাদের জানা।গবেষক দের মতে বেনারস -কাশীর তিলভাণ্ডেশ্বর শিব লিজ্ঞের থেকেও এই অষ্টমুখি লিজ্ঞটি আকারে বড়ো।কাছেই খোলা আকাশের নীচে উন্মুক্ত প্রাজ্ঞনে রয়েছে কিছুটা ভাঙা আর একটি অপেক্ষাকৃত ছোট শিব লিজ্ঞ,নাম বাণেশ্বর শিব।লোক বিশ্বাস রামেশ্বর আর বাণেশ্বর দুই ভাই।এই বাণেশ্বর শিব লজ্ঞটি কালাপাহাড় দ্বারা ক্ষতি সাধিত হয়েছিল।
মন্দিরের নিকট আছে এক প্রাচীন বট গাছ,যার মূল কাণ্ড বিলুপ্ত।বিশাল এই বটবৃক্ষ মন্দির ছত্তর অংশকে যেন এক নৈসর্গিকী সৌন্দর্য দান করেছে। মন্দির সংলগ্ন বিস্তৃত এলাকা ছিল ছাঁদ সদাগরের বসত ভিটে,এখানেই নাকি লখিন্দরের জন্ম।শিব মন্দির থেকে পূর্ব দিকে কিছুটা দূরে রয়েছে এক উঁচু ঢিপি,প্রচলিত এটাই নাকি ' সাঁতালি পর্বত ',এখানেই নির্মিত হয়েছিল বেহুলার লোহার বাসর ঘর।কিন্তু তবুও শেষ রক্ষা হয়নি, ক্ষুদ্র ছিদ্র পথে প্রবেশ করে মনসার আদেশে লখিন্দরকে দংশন করেছিল কাল নাগিনী।
বেহুলা মৃতস্বামীর দেহ ভে
লায় নিয়ে গাঙুরের জলে ভেসে পৌঁছেছিল ইন্দ্রের সভায়,সেই বিখ্যাত গাঙুর নদীও কসবা সংলগ্ন গলসীর মিঠাপুর,আতুসি গ্রামের উপর দিয়ে আজও তার ক্ষীণাকৃতি আকার নিয়ে নিজের অস্তিত্বের প্রমাণটুকু টিকিয়ে রেখেছে।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মনসা মজ্ঞল কাব্যধারার পশ্চিম বাংলার শ্রেষ্ঠ কবি কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ তাঁর কাব্যে বেহুলার যাত্রাপথের যে বর্ণনা দিয়েছেন সেখানে যে স্থানগুলির নাম পাওয়া যায় সেগুলি এই বর্ধমান জেলার মধ্যেই অবস্থিত,যেমন গলসীর জুজুটি ঘাট,শিল্লা ঘাট,গোবিন্দপুর, মণ্ডল গ্রাম ইত্যাদি।
ছাঁদ সদাগর ও বেহুলার চম্পক নগর দেশের যে কোন স্থানে অবস্থিত তা নিদৃষ্ট করে বলা সম্ভব নয়,এ বিষয়ে কোন বির্তকে না গিয়ে বা এ সব ঘটনা কতদূর সত্য সে প্রশ্ন দূরে সড়িয়ে রেখে লোকবিশ্বাসে গলসির বুদবুদ অঞ্চলেরএই কসবা ভক্তি ও শ্রদ্ধার স্থান রুপে পরিগণিত। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের সংক্রান্তিতে মনসা পূজা উপলক্ষে এখানে এক মেলা বসে।এছাড়াও সারা বছর ধরে বিভিন্ন জেলা থেকে এমনকি বাইরের রাজ্য থেকেও অনেকে এ স্থান পরিদর্শনে আসেন।শান্ত পরিবেশে এই স্থানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুবই মনোরোম।স্থানীয় বাসিন্দা চয়ণ রায়গুপ্ত জানালেন," ঠিক মতো প্রচার পেলে স্থানটি পর্যটন কেন্দ্ররুপে গড়ে উঠতে পারে।"
------------/---/----/--//-///
মহাভারত প্রথম ইংরাজীতে প্রকাশ করেন সাঁকোর প্রতাপচন্দ্র রায়।
ফিরোজআলী কাঞ্চন
গলসি অঞ্চলের এক প্রাচীন গ্রাম সাঁকো,মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে গ্রামটির নাম পাওয়া যায়,গ্রামে আছে সূর্য দেবতা ঊসাদিত্যের মন্দির।এই গ্রামে ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দের ১৫মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন মহাভারতের প্রথম ইংরাজী প্রকাশক শ্রদ্ধেয় প্রতাপচন্দ্র রায়।পিতা রামজয় রায়।দরিদ্র পরিবারে অভাব নিত্যদিনের। ভাগ্যের সন্ধানে তিনি কলকাতায় কালীপ্রসন্ন সিংহের বাড়িতে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।কিন্তু কালীপ্রসন্ন সিংহের মৃত্যু তাঁকে অসহায় করে দেয়,খুলে বসললেন বই খাতার দোকান
কালীপ্রসন্ন সিংহের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার ইচ্ছা,স্থির করলেন তিনি নিজেও মহাভারত ছেপে প্রকাশ করবেন।১৮৬৯খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে প্রকাশ পেল মহাভারতের প্রথম পর্ব,তিন হাজার কপি ছাপা হলো,প্রতি কপির দাম রাখা হলো বিয়াল্লিশ টাকা।কিন্তু তখনকার দিনে বিয়াল্লিশ টাকাদিয়ে মহাভারত কেনার সামর্থ সাধার মানুষের ছিল না,তাই তিনি সমস্ত ছাপা গ্রন্থ বিনা পয়সায় বিলিয়ে দিলেন
প্রতাপচন্দ্র টানা বারো বছর ধরে একের পর এক মহাভারতের ৯৪টি ইংরাজী অনুবাদ খণ্ড প্রকাশ করলেন,ইচ্ছে তা ১০০তে নিয়ে যাওয়া।সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না,১৮৯৫খ্রিষ্টাব্দের ১০ জানুয়ারী মৃত্যু হলো প্রতাপচন্দ্র রায়ের।
স্বামীর মৃত্যুশয্যায় সুন্দরীবালাদাসী কথা দিয়েছিলেন তিনি মহাভারতের ইংরাজী অনুবাদের ১০০পর্ব প্রকাশ করে স্বামীর শেষ ইচ্ছা পূর্ণ কবেন,তিনি সে কথা রাখলেন।সুন্দরী বালা দাসীও দেশ বিদেশে প্রশংসিত হলেন।তিনি স্বামীর জন্মস্থান সাঁকোগ্রামে প্রতাপচন্দ্রের প্রথমা পত্নী স্বর্গীয়া গোলাপী সুন্দরী দাসীর অক্ষয় স্বর্গার্থে প্রতাপেশ্বর শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেন ও একটি জলাশয় খনন করে দেন।
(ছবিতে সাঁকো গ্রামে সুন্দরীবালা দাসী প্রতিষ্ঠিত মন্দির,গলসি,পূর্ব বর্ধমান)
লেখা ও ছবি-ফিরোজ আলী কাঞ্চন।।
ফিরোজআলী কাঞ্চন
গলসি অঞ্চলের এক প্রাচীন গ্রাম সাঁকো,মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে গ্রামটির নাম পাওয়া যায়,গ্রামে আছে সূর্য দেবতা ঊসাদিত্যের মন্দির।এই গ্রামে ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দের ১৫মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন মহাভারতের প্রথম ইংরাজী প্রকাশক শ্রদ্ধেয় প্রতাপচন্দ্র রায়।পিতা রামজয় রায়।দরিদ্র পরিবারে অভাব নিত্যদিনের। ভাগ্যের সন্ধানে তিনি কলকাতায় কালীপ্রসন্ন সিংহের বাড়িতে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।কিন্তু কালীপ্রসন্ন সিংহের মৃত্যু তাঁকে অসহায় করে দেয়,খুলে বসললেন বই খাতার দোকান
কালীপ্রসন্ন সিংহের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার ইচ্ছা,স্থির করলেন তিনি নিজেও মহাভারত ছেপে প্রকাশ করবেন।১৮৬৯খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে প্রকাশ পেল মহাভারতের প্রথম পর্ব,তিন হাজার কপি ছাপা হলো,প্রতি কপির দাম রাখা হলো বিয়াল্লিশ টাকা।কিন্তু তখনকার দিনে বিয়াল্লিশ টাকাদিয়ে মহাভারত কেনার সামর্থ সাধার মানুষের ছিল না,তাই তিনি সমস্ত ছাপা গ্রন্থ বিনা পয়সায় বিলিয়ে দিলেন
প্রতাপচন্দ্র টানা বারো বছর ধরে একের পর এক মহাভারতের ৯৪টি ইংরাজী অনুবাদ খণ্ড প্রকাশ করলেন,ইচ্ছে তা ১০০তে নিয়ে যাওয়া।সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না,১৮৯৫খ্রিষ্টাব্দের ১০ জানুয়ারী মৃত্যু হলো প্রতাপচন্দ্র রায়ের।
স্বামীর মৃত্যুশয্যায় সুন্দরীবালাদাসী কথা দিয়েছিলেন তিনি মহাভারতের ইংরাজী অনুবাদের ১০০পর্ব প্রকাশ করে স্বামীর শেষ ইচ্ছা পূর্ণ কবেন,তিনি সে কথা রাখলেন।সুন্দরী বালা দাসীও দেশ বিদেশে প্রশংসিত হলেন।তিনি স্বামীর জন্মস্থান সাঁকোগ্রামে প্রতাপচন্দ্রের প্রথমা পত্নী স্বর্গীয়া গোলাপী সুন্দরী দাসীর অক্ষয় স্বর্গার্থে প্রতাপেশ্বর শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেন ও একটি জলাশয় খনন করে দেন।
(ছবিতে সাঁকো গ্রামে সুন্দরীবালা দাসী প্রতিষ্ঠিত মন্দির,গলসি,পূর্ব বর্ধমান)
লেখা ও ছবি-ফিরোজ আলী কাঞ্চন।।
Subscribe to:
Posts (Atom)















































