Sunday, June 27, 2021
Friday, May 22, 2020
বহুরপীঃনতুন প্রজন্ম আর এ পেশায় আসতে চায় না।
দারিদ্র্য যেন নিত্য সজ্ঞী,বছর বারো ছৌদ্দর ছেলেটি ছেলেবেলার স্বাভাবিক প্রবনতাকে হতাশার ঘরে শেকল তুলে রেখে এসে ছিন্ন পোষাকে বহুরুপী সেজে পথে নেমেছে ভিক্ষায়।কৌতুহলী হয়ে ভালোবেসে কাছে ডাকলাম,শুধালাম ওর বহুরুপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত জীবনের রুপের কথা।
বাড়ি বীরভূমে,পরিবারের সকলের সাথে এসেছে বধ'মানে।দূগা'পুর,আসানসোল থেকে গলসী হয়ে মূল বধ'মান শহরে ওরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।পরিবার বলতে মা,বাবা আর দুই ভাই।আজকে বাবা আর ভাই সেজেছে হুনুমান,মা সেজেছে সুপ'নখা,আর ও সেজেছে মহাদেব।সবাই এক এক দিকে ঘুরছে।আর ওদের দেশের গ্রামের সবাই বহুরুপী সাজে,ওরা পশ্চিম বজ্ঞের বিভিন্ন জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।অনেক কাল থেকে ওরা এ পেশায় যুক্ত।
কিন্তু বড়ো হয়ে আর ও এ পেশায় থাকতে চায় না,কেন না এ পেশায় আজ কাল আর তেমন পয়সা হয় না বলে ওর বাবা ওকে বলেছে মোটর সাইকেল গ্যারেজে কাজে লাগিয়ে দিবে।জিনিসের দাম বাড়ছে,নতুন পোশাক কেনার মতোও রোজগার হয় না,ফলে একই পোশাকে একই সাজ সেজে দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে,সারা দিন ঘুরে ঘুরে জন প্রতি আয় ৭০_৮০টাকা।
ছেলেটির ছিন্ন সাজই ওর বক্তব্যের স্বপক্ষেপ্রমান দিল,মনে হলো কৈলাস থেকে স্বয় ং মহাদেব যেন নেমে এসেছেন এই বালক ব হুরুপীর রুপের অন্তরালে, কেননা দারিদ্রতা যে ম হাদেবেরও নিত্য সজ্ঞী।
আধুনিকতার সব'নাসা শ্রোতে আমরা হারিয়ে যেতে বসেছি আমাদের লোক ঐতিহ্য গুলিকে,এগুলির প্রতি আমাদের সচেতন হওয়া দরকার।
তকীপুরের বড় কালী
' ঠাকুর আর পুকুর/এই নিয়ে তকীপুর। ' জেলার শক্তিসাধনায় আউসগ্রাম থানা অঞ্চলের এই প্রাচীন জনপদ তকীপুর গ্রাম এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।বহু পূর্বে এই স্থান ছিল ঘন বেত বনের গভীর জজ্ঞল,আর সে জজ্ঞল ছিল ঠ্যাঙারে ডাকাতদের অবাধ বিচরন ক্ষেত্র।গ্রামের উত্তর প্রান্তে যে মহাশ্মশান ছিল,সেখানে ডাকাতের দল ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে গভীর রাতে মশাল জ্বালিয়ে এসে কালীর সাধনা করে তবে ডাকাতি করতে যেত।সে প্রায় ৬০০ বছর আগের কথা।পরে বর্ধমান মহারাজের উদ্যোগে নির্মিতি হয় বর্তমান মন্দিরটি।
মন্দিরে নিত্য পূজা দেওয়া হয়,তবে প্রতি সপ্তাহে শনি ও মজ্ঞলবার দেবীর বিশেষ পূজার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।কালীপূজার সময় দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তি তৈরী করা প্রায় ১৫-২০ফুট উচ্চতার।এই সময় দেবীর পূজার কিছু ব্যতিক্রমী রীতি চোখে পড়ে,মাঝ রাত্রিতে পুরোহিত দেবীর চক্ষুদান করে থাকেন,চক্ষুদান করার পরেই তিনি সোজা বাড়ি ফিরে যান,তখন মশাল জ্বালিয়ে পুরোহিত মশায়কে বাড়ি পৌছে দিয়ে আসা হয়।আমাবস্যার ভোর বেলায় দেবীর ঘট আনা হয়,তার পর দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়।বলিদান দেওয়া হয় সকালে,হোম হয়,প্রতিদিন নিয়ম মেনে ঘট আনা হয়,আবার পুজোর পর সে ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। এই ভাবে পঞ্চমী পর্যন্ত পূজা চলে।এ প্রসজ্ঞে উল্লেখ্য দেবীর নিজস্ব কম-বেশী প্রায় ২৭-২৮ ভরি রুপো এবং ৭-৮ভরি সোনার গহনা আছে।এই গহনা পূজা কমিটির মধ্যস্থতায় সারা বছর ব্যাংকের লকারে গচ্ছিত থাকে,পূজার সময় লকার থেকে বেড়করে এনে স্যাকারার কাছে নিয়ে গিয়ে পালিশ করে এনে দেবীকে পরানো হয়ে থাকে,পূজার পর আবার তা নিরাপদে ব্যাংকের লকারে রেখে আসা হয়।
মন্দিরে বলিদানের প্রথা খুব প্রাচীন।।শোনাযায় সেই ডাকারদের আমলে নাকি এই দেবীর উদ্দেশ্যে নরবলি দেওয়া হতো।পরে শুকরও বলি দেওয়ার চল ছিল,তবে তা এখন হয় না।বর্তমানে মোষ,পাঠা,ভেড়া বলি দেওয়া হয়ে থাকে।এই বলির সময় হাজার হাজার ভক্তের সমাগমে মন্দির প্রাজ্ঞন মুখরিত হয়ে থাকে।
এই দেবী বড়ো জাগ্রত।দেবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে তকীপুর গ্রামবাসীর মধ্যে কিছু প্রথার প্রচলন আছে,যেমন ' নুন পালা 'প্রথা;এই প্রথার নিয়ম অনুযায়ী কোন এক বিশেষ দিনে গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে সেদিন নুন ছাড়া রান্না করা হয়ে থাকে।
এই বড় কালীর পূজা উপলক্ষে এক বিরাট মেলা বসে।তকিপুর সংলগ্নভোতা,বিল্বগ্রাম,সর,দি
বর্ধমানের ভূমিপুত্র :হাসির রাজা নবদ্বীপ হালদার
বাংলা সিনেমার স্বর্নযুগে বেশ কিছু কমেডিয়ান নিজস্ব যোগ্যতা ও প্রতিভায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, যাঁদের অসাধারণ শারীরিক বা বাচিক হাস্যরসাভিনয় বাংলা সিনেমায় যেন এক স্বতন্ত্র ধারার সৃষ্টি করেছিল ; আর এই প্রথমদিকের বাংলা চলচিত্রের শ্রেষ্ঠ কমেডিয়ান রুপে যাঁর নাম সর্বাগ্রে এসেযায় তিনি নবদ্বীপ হালদার।
১৯১১ সালে বর্ধমানের সোনাপলাসি গ্রামে নবদ্বীপ হালদারের জন্ম।গ্রামের বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পাঠ শেষ করে তিনি বর্ধমান মিউনিসপাল বয়েজ স্কুলে ভর্তি হন,এই সময় থাকতেন রাধানগরের ঢল দিঘী পাড়ায়।প্রথাগত পাঠ সমাপ্ত করে কলকাতায় পাড়ি দেন।ব্যক্তি জীবনে বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেদিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে।চন্দন নগরে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।কলকাতায় নানা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে কাজ করেগেছেন। কিন্তু গ্রামের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড়ো হয়েউঠা নবদ্বীপ হালদারের মনের গভীরে সর্বদা যেন উকিদিত নিজের অভিনয়ের স্বপ্ন।গ্রামের যাত্রা নাটকে প্রথমে অভিনয়,ইচ্ছে করেই মুখস্তকরা সংলাপ ভুলে যেতেন, আর তাঁর সেই ভুলে যাওয়া দেখে গ্রামের লোকেরা যেন হেসে কুটোকুটি হতো।নবদ্বীপ হালদার কলকাতাতেও সফল হলেন,আপামর বাঙালী যেন তাঁর হাস্যরসের ধারায় মেতে উঠল।
একের পর এক চলচিত্রে নবদ্বীপ হালদার চুটিয়ে অভিনয় করলেন।দুই বেচারা,মানিকজোড়, সন্ধ্যাবেলার রুপকথা,সাড়েচুয়াত্তুর, হানাবাড়ি প্রভৃতি সিনেমা গুলিতে নবদ্বীপ হালদার প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেন।এছাড়াও রেডিও এবং গ্রামোফোনে রেকোর্ডিং যুগে নবদ্বীপ হালদারের হাস্যরসাত্মক শ্রুতিনাটক পাঠ ব্যপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।নবদ্বীপ হালদারের বিখ্যাত শ্রুতিনাটক গুলি হলো -যুদ্ধ বিভ্রাট, রসোগল্লায় ইঁদূর,ইনজেকশান বিভ্রাট, হুলো বেড়াল,আদালতে গড়্গড়ি,যাত্রা বিভ্রাট,মামা ভাগ্নে,লুচি বিভ্রাট, পণ্ডিত মশাই।
হাস্যরসের অভিনয়ে নবদ্বীপ হালদারের বিশেষ বৈশিষ্ট হলো এক অদ্ভুত ব্যতিক্রমী ভাঙা কণ্ঠ স্বরে কথা বলা,অনেকে মজা করে বলতেন,নবদ্বীপ হালদারের গলার স্বর যেন হুকো টানার ঘর ঘর শব্দের মতো,তাইতো পরবর্তীকালে অনেকে নবদ্বীপ হালদারের কমেডি।স্টাইলকে নকল করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।এহেন প্রতিভাধর অভিনেতার জন্মস্থান আজ চরম ভাবে উপেক্ষিত।সোনাপলাসি গ্রামের মাঝের পাড়ায় নবদ্বীপ হালদারের ভগ্নপ্রায় বসত বাড়ি যেন শেষ চিহ্নটুকু নিয়ে নিশ্চিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
------------------- -------- ------------
খাজা আনোয়ার বেড়ের অস্তিত্ব আজ বিপ্নন
বর্ধমান শহরে মুসলিম ঐতিহাসিক ঐতিহ্যময় স্থান গুলির মধ্যে খাজা আনোয়ার বেড় সমাধি সৌধ ক্ষেত্রটি অন্যতম। একদিন বিশেষ এক কাজে বিবেকানন্দ কলেজ মোড়ে গিয়ে হাতে সময় আছে দেখে কৌতুহলী হয়ে চলে গেলাম খাজা আনোয়ার বেড়ের সমাধী দর্শনে।বইয়ে তো অনেক পড়েছি,একবার নিজের চোখেই দেখে আসি।কিন্তু একি দেখলাম! টোটো চালক দশ টাকা নিয়ে কলেজ মোড় থেকে দেড় কিলোলিটারের মতো পথ পেড়িয়ে যেখানে নামালেন এটাই সেই বর্ধমানের বিখ্যাত খাজা আনোয়ার বেড়?কিন্তু প্রবেশ মুখে একি ব্যানার ঝুলছে!' ব্যক্তিগত সম্পত্তি ', ' ছবি তোলা নিষেধ ',ব্যক্তি গত সম্পত্তি যখন তখন প্রবেশ করতেও ভয় হলো।তবে বাইরে থেকেই প্রথমে দুচোখ ভরে দেখে নিলাম বিশাল প্রবেশ পথে সদর দরজা,আর তার সোজা দূরে খাজা আনোয়ারের সমাধী মাজারের অপরুপ স্থাপাত্য সৌন্দর্য। প্রবেশ মুখে সদর দরজার ডান পাশে দেখলাম ছোট ছোট কুটরী গুলিতে কিছু পরিবার বাস করছে,ওঁদের একজন কে জিজ্ঞেস করলাম ' এখানে প্রবেশ করতে হলে কোথায় অনুমতি নিতে হবে?'তিনি আমাকে অপেক্ষায় রেখে একজনকে ডেকে আনলেন,আমারি বয়সের কাছাকাছি এক যুবক,আমি অনুরোধ জানালে তিনি প্রবেশ করার অনুমতি দিলেন,কিন্তু সাবধান করে দিয়ে জালালেন, ' ছবি তুলে পেপারে দিলে কেস খেয়ে যাবেন কিন্তু ',আমি অভয় দিয়ে বললাম," না,না,তা হবে না।"
ওহ!হৃদয় যেন জুড়িয়ে গেল,কি অপরুপ বিন্যাস,কি আপরুপ তার সৌন্দর্য। মকরেবায় আছে তিন গম্বুজ ওয়ালা প্রাচীন মসজিদ,মাঝে বাঁধানো পুষ্করিণী, তার মাঝে হাওয়া মহল।মোগল বংশের আজিম- উস - শানের পুত্র সম্রাট ফারুক শিয়র তখনকার দিনে দুই লক্ষ্য মুদ্রা ব্যয়ে শহীদ খাজা আনোয়ার ও তাঁর চারজন অনুচরের সমাধি ক্ষেত্র,নবাববাড়িটি নির্মান করে দয়েছিলেন।
১৬৯৫ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি মহারাজ কৃষ্ণরাম রায়ের সময় বর্ধমান চাকলার বেশ কিছু অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা দেখা যায়,যেমন চেতুয়া ও বরদার জমিদার শোভা সিংহ,বিষ্ণুপুরের রাজা গোপাল সিংহ,চন্দ্রকোনার তালুকদার রঘুনাথ সিংহ,উড়িষ্যার পাঠান রহিম খাঁ রা একত্রে বর্ধমানের মহারাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করেন।১৬৯৬ তে চন্দ্রোকোণার যুদ্ধে কৃষ্ণরাম রায়ের মৃত্যু হলে শোভা সিংহের নেতৃত্বে বিদ্রোহী দল হুগলী,মেদিনীপুরের বিভিন্ন স্থানে লুণ্ঠন চালিয়ে বর্ধমানে রাজ মহলে হামলা চালায়।কোষাগার লুঠ করে কৃষ্ণরাম রায়ের পরিবাররে পঁচিশ জনকে হত্যা করা হয়।মদ্যপান করে মাতাল হয়ে শোভা সিংহ কৃষ্ণরাম রায়ের কন্যা সত্যবতীর কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে সত্যবীর চুলের খোপায় লুকিয়ে রাখা ছোট্ট ছুরির আঘাতে পাপী শোভা সিংহের মৃত্যু হয়।এর পর বিদ্রোহী দলের নেতৃত্বের লাগাম চলেযায় রহিম খাঁ র হাতে।রহিম খাঁ র অত্যাচার অবচারের সংবাদে দিল্লোর সম্রাট ঔরজ্ঞজেব বিচলিত হয়ে পড়েন,বাহাদুর শাহ্র পুত্র আজিম-উস-সান কে সুবেদার নিয়োগ করা হয় রহিম খাঁ কে দমন করার জন্য,সজ্ঞে দেওয়া হলো সম্রাটের অনুগত দুই বিশ্বস্ত সেনা খাজা সৈয়দ আনোয়ার ও খাজা আবুল কাসেম কে।
বর্ধমান শহরের দক্ষিণ দিকে দামোদর নদের নিকট ' মূলকাঠি ' নামের স্থানে দু পক্ষের যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধের মাঝে আজম-উস-শান দূত মারফত রহিম খাঁ র কাছে অনুরোধ পাঠালেন যে,যদি রহিম খাঁ নিঃশর্ত আত্ম সমর্পন করেন তাহলে তার পূর্বের সব অপরাধ মার্জনা করে উচ্চ রাজ পদে নিয়োগ করা হবে।চতুর রহিম খাঁ এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে আজিম-উস-সান কে দূতের মাধ্যমে আবেদন জানালেন,যদি তিনি খাজা আনোয়ারকে পাঠিয়ে এই চুক্তি সম্পাদন করেন তাহলে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করবেন।সহজ বিশ্বাসে মাত্র কয়েক জন সৈন্য নিয়ে আজিম-উস-শানের নির্দেশে খাজা আনোয়ার ও খাজা আবুল কাশেম রহিম খাঁ র শিবিরে উপস্থিত হয়ে দেখলেন কেমন যেন অস্বাভাবিক পরিবেশ।শিবিরে প্রবেশ না করে তিনারা বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলেন,কিন্তু বিশ্বাস ঘাতক রহিম খাঁ র সৈন্যদের হঠাৎ আক্রমনে অসম যুদ্ধে খাজা আনোয়ার ও খাজা আবুল কাসেম বীরত্বের সজ্ঞে মৃত্যুবরণ করেন(১৬৯৮)
এই দুঃখজনক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আজম_উস-শানের পুত্র ফারুক শিয়র খাজা আনোয়ার ও চার জন শহীদের কবর মাজার সৌধ নির্মান করে দেন।শুধু তা নয় তা রক্ষ্ণাবেক্ষনের জন্য বাদশাহী ফর্মানের মাধ্যমে (১৭১২)খাজা আনোয়ার এবং খাজা আবুল কাশেমের বংশধর গণকে কিছি গ্রাম প্রদান করা হয়েছেছিল।পরে বর্ধমানে বর্গী আক্রমনের সময় এই ফর্মানটি হাড়িয়ে গেলে খাজা আনোয়ার ও খাজা আবুল কাশেমের বংশধরদের আবেদনের ভিত্তিতে ১৭৬৭খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় শাহ আলম আরেকটি ফর্মান প্রদান করেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় এমন এক ঐতিহাসিক স্থাপত্য স্থান টি রক্ষাণাবেক্ষনের অভাবে সসম্পূর্ণ ধ্বংস হতে বসেছে।পলেস্তারা খসে পড়েছে।সর্বত্র নোংড়া আবর্জনা ও আগাছায় ভর্তি।ভগ্নপ্রায় কুঠিরি গুলিতে বাস করছে কিছু পরিবার।পুষ্করিণীটি জলশূণ্য।ব্যক্তি সম্পত্তি হয়ে এখন বাংলা তথা বর্ধমানের গর্ব খাজা আনোয়ার বেড়ের ইতিসের অস্তিত্ব নির্ভর করে আছে এক অজানা ভবিষ্যতের উপর।
মোঃ8617386904
বজ্ঞদেশের প্রাচীনতম তাম্রপট্ট লিপিঃমল্লসারুল লিপি
ফিরোজ আলি কাঞ্চন
১৯৩৯সালে গলসীর মল্লসারুল গ্রামে জারুল নামে এক পুকুরে পাক তোলার সময় পাওয়া যায় একটা তাম্রশাসন,গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেন এটা সমগ্র বজ্ঞদেশের প্রচীনতম তাম্রপট্ট লিপি। যখন উদ্ধার হয় তখন লিপিটির প্রথম কয়েকটি অক্ষর নষ্ট হয়ে গেছে__
"...নাথঃ যঃ পুংসাং সুকৃতকম'ফলহেতুঃ
সত্যতপোময় মূতি'ল্লোকদ্বয় সাধনো ধম'ঃ
তদুনুজিতদনভ শোভা জ য়..."
এই লিপিটর পাঠোদ্ধার করেছিলেন ননীগোপাল মজুমদার,তিনি এই লুপ্ত অংশের অনুমান করেছিলেন_"জয়তিশ্রী লোকনাথঃ"।কিন্তু ডঃসুকুমার সেন তার "বাজ্ঞালা সাহিত্যের ইতিহাস" গ্রন্থে(প্রথম খন্ড) এই অনুমানকে খন্ডন ক রে একাধিক যুক্তি দেখিয়েছেন,_"...মুদ্রায় আকা এই ছবি হ ইতে মনে হয় শ্লোকটি রাজদেবতা ধমে'র বন্দনা।"
ডঃসেনের মতকে গ্রহন করা হলে বোঝাযায় লৌকিক দেবতা তথা লোকধম' সেই প্রাচীন কাল থেকে ক তো গভীর প্রভাব বিস্তার ক রেছিল গলসী তথা ব ধ'মানের মাটিতে।তাছাড়া এই তাম্রপট্ট লিপিতে সব'প্রথম বধ'মান ভুক্তির উল্লেখ পাওয়া যায়।
এখানে উল্লেখিত মহারাজ বিজয় সেনের রাজত্ব কাল ছিল ৫০৭__৫৪৩খ্রীঃ।মল্লসারুল লিপি আসলে একটি ভূমিদান পত্র।এই লিপিতে গ লসী অঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামের প্রাচীন নামের উল্লেখ পাওয়া যায়,যেগুলি অপভ্রংশিত হ য়ে এই অঞ্চলে আজ ও রয়ে গেছে,ডঃ সুকুমার সেন এই নামগুলি উদ্ধার করেছেন___
বত'মান নাম লিপিতে থাকা নাম
মল্লসারুল > আম্রগতি'কা
বাকতা > বককত্তক
আদড়া > অধিঝকরক
কইতারা > কবিন্থবাটক
মহড়া > মধুযাটক
সিমলোড়। > শান্মলী ঘাটক
লিপিটির বিষয় পার্শবর্তী বেশ কিছু গ্রামের ব্যক্তির কাছথেকে স ম্পত্তি ক্রয় করে তা কৌণ্ডিন্য গোত্রীয় ব্রাম্ভন বৎসস্বামীকে প্রদান পত্র।এই দাতা ছিলেন বিজয় সেন,প্রথমে ইনি ছিলেন গুপ্তশাসনের শেষ পর্বের শাসক বৈন্যগুপ্তের সামন্ত,পরে গোপ চন্দ্রের সামন্ত হন।এই লিপিতে তখনকার দিনের রাজকর্মচারীদের বেশ কিছু পদবীর নাম পাওয়া যায়,যেমন -' আগ্রাহারিক','বিথ্যাধিকরণ ',' বাহনায়ক ' ইত্যাদি।
মল্লসারুল লিপি গলসীর ঐতিহাসিক উপাদনের এক উল্লেখ যোগ্য দলিল।
---------------------------
মোঃ8617386904
স্বাধীন্তা সংগ্রামী যতীন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় ও চান্না আশ্রম।
ফিরোজ আলী কাঞ্চন
জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম দিকে দলে প্রাধান্য ছিল মডারেট বা নরমপন্থীদের,এঁরা ব্রিটিশ সরকারে সজ্ঞে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরাধীন দেশবাসীর আশা আকাঙ্ক্ষা পুরন করতে চেয়েছিলেন,কিন্তু কার্জনের বজ্ঞভজ্ঞ বিরোধী আন্দোলনের সময় নরম পন্থীদের সজ্ঞে চরম পন্থীদের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এই দুটি ধারারই ব্যপক প্রভাব বাংলার অনান্য স্থানের সজ্ঞে সজ্ঞে বর্ধমান জেলাতেও পড়েছিল,অনেক তরুণ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশ স্বাধীনের মহান ব্রতে।
বর্ধমান জেলাতে চরমপন্থী আন্দোলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন যতীন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়।১৮৭৭খিষ্টাব্দে ১৯নভেম্বর উনিশ শতকের বৈপ্লবীক সংগ্রামের অগ্নিময় প্রতিমূর্তি এই যতীন্দ্রনাথবন্দোপাধ্যায়ের জন্ম গলসীর চান্না গ্রামে।এই চান্না গ্রামে আবার বাংলা শাক্তপদাবলীর বিখ্যাত পদকর্তা সাধক কবি কমলাকান্তের গ্রাম,যদিও কবির জন্ম অম্বিকা কালনায়,কিন্তু অকালে পিতৃবিয়োগের জন্য তিনি মায়ের সজ্ঞে চলে আসেন চান্নায় ;এখানের বিশালাক্ষী মন্দিরে পঞ্চমুন্ডি আসনে সাধক কবি সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেছিলেন।
সে যাই হোক,যতীন্দ্রনাথ ছিলেন বলিষ্ঠ সুস্বাস্থের অধীকারী,গ্রামের বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পাঠ সমাপ্ত করে তিনি বর্ধমানের রাজ কলেজে ভত্তি হলেন।চাত্রাবস্থাথেকেই যতীন্দ্রনাথের মনে স্বদেশ প্রেম আর জাতীয়তাবোধের সঞ্চার ঘটতে থাকে।তিনি স্থর করেন সামরিক বিভাগে যোগদিয়ে যুদ্ধের রণকৌশল আয়ত্ব করে তা দেশহিত ব্রতে প্র য়োগ করা।কিন্তু পিতা কালিচরণ বন্দোপাধ্যায়ের ইচ্ছে পুত্র কোন সরকারী উচ্চপদে চাকরী করুক।যতীন্দ্রনাথ রাজকলেজ থেকে এফ. এ. উত্তীর্ণ হয়ে বরোদায় নিজের নাম গোপন রেখে ছদ্মনামে অশ্বারোহী বিভাগে কাজে যোগদেন ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে।
বররোদার রাজ কলেজের অধ্যক্ষ্য তখন শ্রী অরবিন্দ ঘোষ।সেখানে দুজনের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে।যতীন্দ্রনাথ অরবিন্দ ঘোষের কাছে বিপ্লব মন্ত্রে দীক্ষিত হন।তরুন যুবক যতীন্দ্রনাথ অরবিন্দর কাছে অনুরোধ জানান দেশের কাজে নিজেকে নিবেদিত করার সুযোগ করে দেবার জন্য।অরবিন্দ তাঁর সসহোদর বারীন্দ্র কুমার ঘোষের সজ্ঞে যতীন্দ্র বন্দোপাধ্যায়কে
কলকাতায় পাঠান বভিন্ন গুপ্ত সমিতি ও বপ্লবী দলগুলির সজ্ঞে গোপনে যোগাযোগ গড়ে তোলার জন্য।
অরবিন্দ ঘোষের নির্দেশে ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে যতীন্দ্রনাথ কলকাতায় ফিরেএসে চার নম্বর শ্যামাপুকুর লেনে যোগেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষনের বাড়িতে অবস্থান করে অনুশীলন সমিতির সজ্ঞে নিজেদেরকে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্তকরে দেন।বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে সজ্ঞেনিয়ে কানাইলাল দত্ত,সত্যেন বসু,উল্লাসকর দত্তদের সাহায্যে মানিকতলার মুরারিপুকুর লেনে এক বোমাতৈরীর কারখানা গড়ে তুলেন,এই কারখানাকেই কেন্দ্রকরেই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বিখ্যাত মানিকতলা বোমামামলার কাহিনী।
বজ্ঞভজ্ঞ আন্দোলনের পথনির্দেশিকা প্রদানের জন্য যতীন্দ্রনাথ ও বারীন্দ্রকুমার কল কাতায় আসার জন্য অরবিন্দ ঘোষকে আহ্বান জানান।অরবিন্দ বরোদার কলেজের সাড়ে সাতশত টাকার বেতনের চাকরী ছেড়েদিয়ে কলকাতায় এসে মাত্র পঁচাত্তর টাকার বেতনে জাতীয় কলেজে যোগদেন।যতীন্দ্রনাথ তাঁর তৈরীকরে দেওয়া বাংলা মায়ের একদল দামাল ছেলেকে অরবিন্দের দায়ীত্বে অর্পণ করে গুরু অরবিন্দের মন্ত্র শিষ্য হয়ে বৈপ্লবিক মতাদর্শকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।
এই সময়ে পাঞ্জাবে করবৃদ্ধি ও চন্দ্রভাগা খালের জল কর আইনকে কেন্দ্রকরে বিপ্লববাদী শক্তি বৃদ্ধি পেতেথাকে।যতীন্দ্রনাথ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাঞ্জাবে পৌঁছে সেখানের বিখ্যাত বাবা গুরুদিৎ সিং সাহেবের সজ্ঞে সাক্ষাৎ করে বিপ্লবী দের একটি শাখা প্রতিষ্ঠিত করেন,যে শাখার অন্যতম সদস্য ছিলেন ভগৎ সিংয়ের পিতা কিশন শিং;এক কথায় যতীন্দ্রনাথ পাঞ্জাবে যেন ' গদর পার্টি 'র বীজ রোপন করে দিয়ে আস লেন।
এতো কিছুর মধ্যেও যতীন্দ্রনাথের মনের গোপন কুঠিরে মাঝে মধ্যে যেন উদয় হতো এক একেবারে বিপরীত এক জীবনাদর্শন,তিনি যেন এই তীব্র বৈপ্লবিক জীবনের বাইরে আধ্যাত্মিক ভাবনায় মাঝেমধ্যে গভীর ভাবনায় তলিয়ে যেতে লাগলেন।আলমোরাতে অবস্থান কালে আধ্যাত্মিক সাধক শ্রীমৎ সোহহং স্বামীর নৈকট্য যেন যতীন্দ্রনাথকে পুরোপুরি বদলে দেয়, সন্যাস গ্রহন করে নামনেন স্বামী নীরালম্ব।
স্বগ্রাম চান্নায় ফিরে এসে স্বামী নীরাল ম্ব খড়ি নদীর তীরে সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত করলেন একটি আশ্রম।কিন্তু এই আশ্রমটি ক্রমে হয়ে উঠল কলকাতা থেকে বহুদূরে ব্রিটিশ পুলিশের চোখ এড়িয়ে বিপ্লবীদের আত্মগোপন করে থাকার বাংলার এক শ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থান।রাসবিহারী বসু,ভগৎ সিং য়ের পিতা কিশন সিং সহ অসংখ্য বিপ্লবীর পদ ধূলি ধন্য এই চান্নার স্বামীনীরালম্বের আশ্রম।
শরীর দুর্বল হয়ে পড়ায় ১৯২৭খ্রিষ্টাব্দে স্বামী নীরালম্বকে তাঁর অন্যতম শিষ্য শ্রী বিজয় বসন্ত বসাক বরাহ নগরে নিজের উদ্যান বাটিতে চিকিৎসার জন্য নিয়েযান,এই সময় ভগৎ সিং ক লকাতায় ছিলেন,তিনি এসে স্বামী নীরালম্বের আর্শিবাদ গ্রহন করেন।অবশেষে ১৯৩০খ্রিষ্টাব্দে অগ্নিযুগের ব্রম্ভা নামে বাংলার চরমপন্থী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে সম্মানীয় স্বামী নীরালম্ব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ হেন ঐতিহ্যময় চান্না গ্রামের স্বামী নীরালম্বের আশ্রম আজ প্রচারের অন্তরালে।নেই কোন নজরদারি বা রক্ষনাবেক্ষনের ব্যবস্থা।এক বৃদ্ধ সন্যাসী দেখাশুনা করতেন তিনিও গত হ য়েছেন।এ প্রতিবেদককে তিনি প্রায়ই আক্ষেপ ক রে বলতেন,এই আশ্রমটিকে আর হয়তো রক্ষা ক রা যাবে না,আমি মারা গেলে কে আর দেখবে।" আশ্রম সংলগ্ন আদিবাসী পাড়ার বাসীন্দারাই এখন মূলত তাদের ক্ষুদ্র সাধ্যমতো আগলে রেখেছে এই দেশপ্রেমের ঐতিহ্যময় স্থানটিকে।মাঝে মধ্যে বাৎসরিক অনুষ্ঠান কিছু উৎসাহী ব্যক্তি দ্বারা আয়োজিত হলেও সরকারী ভাবে এ আশ্রমটি অধিগ্রহন না করলে অচিরেই হয়তো হারিয়ে যাবে।
8617386904
Subscribe to:
Posts (Atom)